১৯৫২ সাল। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার স্বীকৃতির দাবীতে উত্তপ্ত ঢাকার রাজপথ। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সেই আন্দোলনের ছোয়া লাগে অত্র এলাকার বাংলা ভাষা-ভাষি জনতার মাঝে। অত্র এলাকায় একাধিক উর্দূ ভাষার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও বিপুল বাঙালী জনগোষ্ঠির জন্যে কোন বাংলা ভাষার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলনা।এলাকার বাঙালী শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক এগিয়ে আসলেন বাংলা ভাষার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর লক্ষ্যে। প্রতিষ্ঠিত হলো চাঁদাতুলে, স্বেচ্ছাশ্রমে এবং নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে রেলওয়ে ভূমিতে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেটি বাংলা স্বুল নামে অধিক পরিচিত ছিল। বিদ্যালয়ের পূর্ব পার্শ্বে ঝাউতলা রেলওয়ে কলোনী, পশ্চিম পার্শ্বে ওয়ার্লেস কলোনী। তাই মধ্যিখানের বিদ্যালয়টির নামকরন হলো”ওয়ার্লেস ঝাউতলা কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়”।’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের সফলতায় যেমনি সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতদের নাম চিরঅম্লান হয়ে আছে জাতীর কাছে, তেমনি এ-বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আজগর স্যার (জনাব আলী আজগর), এস.এম. এ হায়াত, মাইজ্যামিয়া, সৈয়দ জালাল আহম্মদ, সালেকুর রহমান চৌধুরী সহ নাম না জানা আরো অনেকত্যাগী শিক্ষানুরাগীর কথা। ১৯৬৪ সালে প্রথম বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে চার কক্ষের একটি দালান ঘর আর জনগনের সার্বিক সহযোগিতায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা বিদ্যালযের প্রথম ১৯৬৮ সালে এস. এস. সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে মাত্র তিন জন শিক্ষার্থী।
পরবর্তীতে বিভিন্নসময়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সুযোগ্য নেতৃত্বের ফলে সরকারী-বেসরকারী অর্থায়নে তৈরী হওয়া অবকাঠামো এক মহীরূহরূপলাভ করে। সর্বশেষ অত্র এলাকার সাবেক সাংসদ মরহুম ডা: আফসারুল আমিন (এম.পি) মহোদয়ের আন্তরিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে তৈরী হয় সুরম্ম ছয়তলা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন।